Saturday, March 26, 2016

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচে খুশি দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে



নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচে খুশি দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। টুর্নামেন্টে ব্যাটসম্যানদের কিছু ভুলে ম্যাচ হারলেও হাথুরুসিংহের কণ্ঠে স্বস্তি।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার মতে আমরা কন্ডিশন বুঝে ভালোই ব্যাট করেছি এই টুর্নামেন্টে। তবে আজকে আমাদের ব্যাটিংয়ের অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিল না। অন্য ম্যাচগুলোয় আমরা খারাপ করিনি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে শুরুতে আরও একটু রান করলে ভালো হতো। এই ম্যাচ বাদ দিলে ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচে আমি খুশিই।’

শনিবার ইডেনের উইকেটে বল খুব নিচু হচ্ছিলো। তাইতো হাথুরুসিংহে মনে করেন এই ধরনের উইকেটে ১২০-১৩০ রান স্বাভাবিক। তার বেশি রান করা কিছুটা হলেও কঠিন। তিনি বলেন, ‘ আমার মতে এটা ১৪০ রানের উইকেট নয়। হয়ত ১২০-১৩০ রানের উইকেট। প্রথম ৪-৫ ওভার থেকেই বল নিচু হচ্ছিল। বলের শক্তভাব কেটে গিয়েছিল। বল নিচু হচ্ছিল এবং দুরকম গতির ছিল। নিউজিল্যান্ডের কৃতিত্ব অবশ্য কেড়ে নিচ্ছি না আমরা। ওদের বোলাররার কন্ডিশন বুঝে দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বোলিং করেছেন। তবে দিনশেষে আবারও বলতে হবে আজকে আমাদের ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিল না।’
ভারতের বিপক্ষে এক রানে হেরে হতাশ হয়ে পড়েছিলো বাংলাদেশ দল। ওই ম্যাচের প্রভাব এখানে পড়েছি কিনা জানতে চাইলে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘এটা বলা মুশকিল। তবে ওই ম্যাচে ওভারে হেরে যাওয়া হজম করা কঠিন। আমরা কিছু কিছু সময় ভালো বোলিং করেছি। ফিল্ডিংয়ে অবশ্য কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছি। ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাট করতে পারিনি।’

বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়


বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।
বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে বারাক ওবামার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতা যে কোনও জাতির নিঃশ্বাসের মতো। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ও এর জনগণ বিশ্বের বুকে সম্ভাবনাময়, উদ্যমী ও সহনশীল জাতিতে পরিণত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, নারী অধিকার ও নারী শিক্ষা ও দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে এবং দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দেখিয়েছে।’
এদিকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে পাঠানো এক বার্তায় ৪৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

বার্তায় প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কে অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে। আমি নিশ্চিত, দুই দেশের মধ্যকার এই চমত্কার সম্পর্ক আগামীতে আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’

Friday, March 25, 2016

আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ তথ্যপ্রযুক্তিতে ভাতাসহ প্রশিক্ষণ


এখন প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই অন্যান্য বিভাগের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগও রয়েছে। এই তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে প্রতিষ্ঠানগুলো চায় প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ করতে। ফলে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকের। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে চাকরি করতে হলে আগে এ বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এমনই এক প্রশিক্ষণ দেবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশনাল ওয়াক্ফ (আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের সুবিধাবঞ্চিত মুসলমান মেধাবী যুব সমাজের শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয়ে বিনা ফিতে বিভিন্ন মেয়াদি প্রফেশনাল ডিপ্লোমা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত এই প্রফেশনাল কোর্সে ৪ হাজার ৭২১ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই দেশে-বিদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় কাজ করছেন। প্রতিবছর চারটি সেশনে এখানে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করানো হয়। এরই মধ্যে চলছে রাউন্ড ৩১-এর আবেদন প্রক্রিয়া। আবেদন করতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। তাই যাঁরা তথ্যপ্রযুক্তিতে নিজের পেশা গড়তে চান, তাঁরা করতে পারেন এই প্রফেশনাল ডিপ্লোমা কোর্সটি।
যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণএই ব্যাচে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এর মধ্যে আর্কিটেকচারাল অ্যান্ড সিভিল ক্যাড, ডেটাবেইস ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমস অ্যানালায়সিস অ্যান্ড ডিজাইন, গ্রাফিকস, অ্যানিমেশন ও ভিডিও এডিটিং, নেটওয়ার্কিং টেকনোলজিস এবং ওয়েব-প্রেজেন্স সলুশনস অ্যান্ড ইমপ্লিমেনটেশনস এসব বিষয়ে। কোর্সভেদে ১১ থেকে ১৩ মাস মেয়াদি এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা
এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হলে আবেদনকারীকে স্নাতক/ফাজিল/মাস্টার্স/কামিল/ডিপ্লোমা (সিভিল/আর্কিটেকচার/কনস্ট্রাকশন/সার্ভে) পাস হতে হবে। আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে apply.idb-bisew.info এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যেকোনো শাখা থেকে আবেদনপত্র পাওয়া যাবে। আবেদনপত্র পূরণ করে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ডাকযোগে পাঠাতে হবে। এখানে প্রতি ব্যাচে ৩০০ জন করে বছরে ১ হাজার ২০০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হতে পারে। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। এমসিকিউ পদ্ধতিতে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরে পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হবে। এই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। প্রশিক্ষণ শুরু হবে আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে। সপ্তাহে ছয় দিন চার ঘণ্টা করে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে মনোনীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে। এসব প্রশিক্ষণ দেবেন দেশের বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউয়ের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ রায়হান বাশার বলেন, দেশে এখন প্রায় অনেকেরই তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে ভালো কোনো চাকরি হচ্ছে না। তাই নিজেকে দক্ষ করে তোলার জন্য এই প্রশিক্ষণটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। আর এখানে প্রফেশনাল কোর্সটির আগে দুই মাসের ফান্ডামেন্টাল কোর্স করতে হবে। এতে ভালো করতে পারলে পরে মূল প্রফেশনাল কোর্সগুলোতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রায়হান বাশার আরও জানান, এই প্রফেশনাল কোর্স করার সময় প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে।
কাজের ক্ষেত্র
রায়হান বাশার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির ওপর এসব প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, বায়িং হাউস, আইটি ফার্ম, এনজিও ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অনেক সুযোগ পাওয়া যাবে। সবচেয়ে চাহিদা-সুযোগ আছে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোতে। এতে ভালো বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিজে ব্যবসা করেও ভালো আয় করা সম্ভব। অর্থাৎ যেখানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আছে, সেখানেই তাঁরা কাজের সুযোগ পাবেন বলে জানান রায়হান বাশার।
আরও জানতে
কোর্সসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ, ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশনাল ওয়াক্ফ (আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ), আইডিবি ভবন, পঞ্চম তলা, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা- ১২০৭। ফোন: ৯১৮৩০০৬। Web: www.idb-bisew.org

তনু হত্যার প্রতিবাদের মিছিল বড় হোক

বাবা বাড়িতে। রাত সোয়া ১০টা বাজে। মেয়ে ফেরেনি। তিনি মেয়েকে খুঁজতে বেরোলেন। বাবার হাতে টর্চলাইট। বাড়ির অদূরেই কালভার্টের কাছে পড়ে আছে একপাটি জুতা। তাঁরই মেয়ের। টর্চ মেরে দেখলেন একটু দূরে তার মোবাইল পড়ে আছে। কালভার্টের আরেক পাশে পাওয়া গেল তনুকে। বাবার চিৎকারে তনুর ছোট ভাই রুবেলও ততক্ষণে ছুটে এসেছে।
এই পর্যন্ত পড়েই বুকটা চেপে ধরে। শরীর হিম হয়ে আসে। আহা, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন সাহেব। আপনার মনের ভেতর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে তখন, তনুর মায়ের মনের ওপর দিয়ে, আপনাদের সমস্ত অস্তিত্বজুড়ে কী অসহ্য অমেয় বেদনার পাহাড় চেপে বসে আছে! আমি কল্পনা করতে পারছি না। আমি এই চাপ নিতে পারছি না।
কী প্রাণবন্ত একটা মেয়ে ছিল তনু। সোহাগী জাহান তনু। আপনাদের আদরের সোহাগী। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, একাধিক, মাথায় স্কার্ফ, মুখে হাসি, চোখে বুদ্ধির ঝলক। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাসের ছাত্রী। নাটক করে। সংস্কৃতি চর্চা করে। প্রাণহীন বিক্ষত দেহ পড়ে রইল কালভার্টের পাশে, জঙ্গলের ভেতরে। বাড়ির খুব কাছে।
আমিও তো বাবা। আমার বুকের মধ্যে সন্তানহারানো বাবার সমস্ত বেদনা এসে চেপে ধরে। আমিও একজন মানুষ! আরেকটা মানুষের এই অপরিসীম উত্তরহীন শোক, বেদনা, যন্ত্রণা আমাকেও খানিকটা স্পর্শ করে।
হয়তো তনুর এই খবর আমি অগ্রাহ্য করে নিস্তরঙ্গ হয়েই থাকতাম। রোজ তো তাই করি। এত দুঃসংবাদ, এত মৃত্যু, এত নারী নির্যাতন, আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, রেল-নৌ দুর্ঘটনার খবরের চাপে পলায়নবাদী হয়ে গেছি। ওই সব খবর পাশ কাটিয়ে চলে যাই। নিরাপদ তন্দ্রায় আশ্রয় নিতে চাই। পড়লে সহ্য করতে পারব না। কান্নাকাটি করব। বাকি সব কাজ তুচ্ছ মনে হবে। বুঝি, এ হলো বার্ধক্যের লক্ষণ। উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে বহমান ঝড়কে ভুলে থাকার চেষ্টা।
কিন্তু তরুণেরা তা হতে দিল না। আমার মতো আধমরাদের ঘা মেরে বাঁচানোর জন্য সারা বাংলাদেশের অপরাজেয় তারুণ্য জেগে উঠেছে। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে দখল করেছে কুমিল্লার সড়ক-মহাসড়ক। প্রতিবাদে রুখে উঠেছে দেশের নানা জায়গার তরুণসমাবেশ। তারুণ্য তো তাই। প্রতিবাদ করাই তো তারুণ্যের ধর্ম। হেলাল হাফিজ তো সেই কবেই লিখে রেখেছেন, এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।
ওইখানেই আশার আলো দেখছি। প্রতিবাদের আগুনে আমাদের কালিমা পুড়ে যাক। আমরা খাঁটি সোনা হয়ে উঠি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন, এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, এই হাতে আমি কি আর কোনো পাপ করতে পারি? স্মৃতি থেকে লিখছি, এদিক-ওদিক হতে পারে, সুনীল লিখেছিলেন, পুরুষ পাঞ্জার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলি, যোগ্য হও, যোগ্য হয়ে ওঠো। যে হাতগুলো মিছিলে যাবে, মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আকাশের দিকে উঠবে, তারা সবাই যেন শুদ্ধ হয়ে ওঠে, এই পুরুষ হাতগুলো যেন তনুদের পাশে থাকবার, সঙ্গে চলবার জন্য চিরদিনের জন্য যোগ্য হয়ে ওঠে।
তনুকে যারা হত্যা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হোক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যেন আর কেউ কোনো তনুর দিকে তাদের হিংস্র হাত বাড়ানোর সাহস না পায়। এটা সম্ভব।
সেই যে দিনাজপুরের ইয়াসমিন হত্যার বিরুদ্ধে সমবেত প্রতিবাদে কাজ হয়েছিল। বিচার হয়েছে, শাস্তি পেয়েছে অপরাধীরা। এবারও তাই হতে হবে। দোষীদের খুঁজে বের করতে পারতেই হবে। অপরাধীর/অপরাধীদের আইনানুগ ন্যায্য ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতেই হবে।
পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা সর্বস্তরে বন্ধ করার আন্দোলনও সূচিত হোক আজকের দিনটি থেকেই। আমাদের তিনজন নারীর দুজনই নির্যাতিত হন নিজ ঘরে। আমাদের নারীরা সম্মানিত নন, সমমর্যাদা পান না কোথাও। আজকে যে তরুণেরা প্রতিবাদী হয়ে নেমেছেন রাজপথে, যে তরুণেরা সর্বস্ব পণ করে আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, তাঁদের বলি, এই নৃশংস অপরাধের ন্যায়বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার এই আন্দোলন বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান। হাস্তালা ভিক্তোরিয়া সিয়েম্পে্র—চে গুয়েভারার উক্তি—মাহমুদুজ্জামান বাবুর গানে যা আমরা শুনতে পাই—বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও… এখনই অন্ধ বন্ধ কোরো না পাখা, তা হোক এই আন্দোলনের ব্রত। পাশাপাশি, ঘরে-বাইরে, মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে, যানবাহনে-স্টেশনে, কর্মস্থলে-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, পাহাড়ে-সমতলে, নির্জন স্থানে আর জনতার ভিড়ে—সর্বত্র আমরা যেন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে, নারী সহকর্মী নিয়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে বেরোতে ভয় পাই, ভিড়ের কারণে, বইমেলার গেটে নারীসঙ্গী থাকলে তটস্থ হয়ে থাকি। ভিড়ের মধ্যে নারী নিরাপদ নন। নারী নিরাপদ নন তাঁর নিজের ঘরে। নারী নিরাপদ নন নির্জন স্থানে। নারী নিরাপদ নন কাস্টোডিতে। নারী নিরাপদ নন অফিসে। এবং শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত কে এই সমাজে নিজেকে নিরাপদ ভাবেন? কোন নারী?
এসব ব্যাপারে করণীয় আছে অনেক। তবে সবকিছুর শুরু হবে নিজ থেকে, নিজের পরিবার থেকে। আমার নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে যেমন বলতে হবে, যোগ্য হও, যোগ্য হয়ে ওঠো, তেমনি আমার ছেলে সন্তানটিকে উপযুক্ত মূল্যবোধ দিতে হবে, আমি যদি নারীকে সম্মান না করি, আমার সন্তান শিখবেটা কী।
তনু হত্যার প্রতিবাদের মিছিল বড় হোক। ওই প্রতিবাদের আগুন আমাদের পুড়িয়ে পুড়িয়ে খাঁটি করে তুলুক। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে যেন বিন্দুমাত্র গড়িমসি না করে। ব্যক্তিও যেন নিজেকে শুদ্ধ করতে ব্রতী হয়। সমাজ যেন পুরুষবাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে মানববাদী হয়ে ওঠে।

Thursday, March 24, 2016

এই ম্যাচের বাংলাদেশ তো সাহসী বাংলাদেশ!!


ভারতীয় ক্রিকেটারদের লাফালাফি শেষে দুদলের খেলোয়াড়দের হাত মেলানো-টেলানো সারা। প্রায় সবাই বেরিয়ে গেছেন। সাকিব আর তামিম তখনো মাঠের মাঝখানে। সাকিব উত্তেজিতভাবে কিছু একটা যেন বললেন। তারপর দুজনই কোমরে হাত দিয়ে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। তারপর শরীরটা টানতে টানতে ড্রেসিংরুমে ফেরা।
ফেরার সময় উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা হরভজন সিংয়ের দিকে চোখ পড়ল তামিমের। পিঠে টোকা দিয়ে তাঁর সঙ্গে হাত মেলালেন। হরভজন হাত ছাড়িয়ে জড়িয়ে ধরলেন তামিমকে। কিছুক্ষণ ধরেই থাকলেন।
এই ম্যাচে এত সব নাটক ছাপিয়ে ওই দৃশ্যটাই কি শেষ পর্যন্ত অমর ছবি হয়ে গেল! এমন এক ম্যাচ, যাতে আসলে বিজয়ের আনন্দে ভেসে যেতেও বিজয়ীর মনে বিজিতের জন্য একটু কষ্ট ছুঁয়ে যায়!
টি-টোয়েন্টি মানে নাটক। টি-টোয়েন্টি মানে শেষ ওভারের নখ কামড়ানো উত্তেজনা। এই বিশ্বকাপ তো তাহলে টি-টোয়েন্টি নামের ‘কলঙ্ক’! শেষ হওয়ার অনেক আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে ম্যাচের পর ম্যাচ। অবশেষে বেঙ্গালুরুর উন্মাতাল গ্যালারির সামনে টি-টোয়েন্টি দেখা দিল আপন মহিমায়। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এটা কি আর সেই বৃহত্তর ছবি দেখার ম্যাচ!
এই ম্যাচ হৃদয় ভেঙে দেওয়া এক দুঃখের নাম। হাতের মুঠোয় নিয়েও জয়টাকে ছুড়ে ফেলার ম্যাচ। এমনই অবিশ্বাস্যভাবে যে, দুঃখ শব্দটা এখানে ‘শোক’ হয়ে যেতে চায়। ২০১২ এশিয়া কাপের সেই ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হারার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মুশফিক-সাকিবরা। কাল কান্নাকাটি কিছু হয়ে থাকলে তা আড়ালেই হলো। সেই কান্না পিছু তাড়া করার কথা অনেক দিন। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর শয়নে-স্বপনে নিশ্চিতভাবেই ফিরে ফিরে আসবে শেষ তিন বলের ওই দুঃস্বপ্ন।
শেষ ওভারে ১১ রান চাই। প্রথম তিন বলেই হয়ে গেল ৯। শেষ তিন বলে ২ রান, বাকি সব সমীকরণ মুছে দিয়ে ম্যাচ তখন একটা সম্ভাবনা নিয়েই দাঁড়িয়ে—বাংলাদেশই জিতছে। হার্দিক পান্ডিয়াকে পরপর দুটি চার মেরে সেই জয়ের আগাম উল্লাসটাও যেন করে ফেললেন মুশফিকুর রহিম!
তাতেই কি সর্বনাশটা হলো! আবেগের ঢেউ এলোমেলো করে দিল এমনিতে মুশফিকের নিষ্কম্প মনকে! একটা সিঙ্গেল নিলেই যেখানে স্কোর সমান হয়ে যায়, আসলে শেষ হয়ে যায় ম্যাচও—তিনি কিনা উড়িয়ে মারতে গেলেন। ডিপ মিড উইকেটে ওই ক্যাচটা আসলে দুঃস্বপ্নের সূচনা, কেই-বা তা ভাবতে পেরেছিল! বাংলাদেশই তো জিতছে! স্ট্রাইকে চলে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। ২ বলে ২ রান তো হচ্ছেই। মুশফিকের ভুল কি আর মাহমুদউল্লাহ করবেন!
ফুল টস পেয়ে মাহমুদউল্লাহর যুক্তি-বুদ্ধিও সব গুলিয়ে গেল। মুশফিকের মতো তাঁরও একই পরিণতি। শেষ বলে রান আউটে ম্যাচটা ‘টাই’ও হলো না। ৩ বলে ২ রান চাই, আর সেই তিন বলেই তিন উইকেট! না, টি-টোয়েন্টি এমন কিছু আর দেখেছে বলে মনে হয় না।
ওই তিনটি বল বাদ দিলে আগের দিনও বিপর্যস্ত মনে হওয়া বাংলাদেশ কী দারুণই না খেলল!
সব আশা যখন শেষ বলে মনে হয়, তখনই ঘুরে দাঁড়িয়ে চমকে দেওয়ার গল্প অনেকবারই লেখা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। কালকের দিনটিকেও মনে হচ্ছিল তাতে নবতম সংযোজন। শুরু থেকেই যেন সেই চিত্রনাট্য অনুসরণ করে এগোচ্ছিল ম্যাচ।
বিশ্বকাপের বাইরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আর কয়টাই বা খেলা হয়! রেকর্ড দিয়ে তাই মাঠ বিচার করাটা কঠিন। তবে ভারতে এই সমস্যা নেই। আইপিএলের কারণে প্রতিটি মাঠেরই একটা চরিত্র দাঁড়িয়ে গেছে। সেই চরিত্র অনুযায়ী চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম ব্যাটিং-স্বর্গ। প্রথমে ব্যাটিং করে এই মাঠে গড় স্কোর ১৮৯। সেখানে ভারত করতে পারল ১৪৬। তার মানে বাংলাদেশই জিতছে!
আগের দিন মাশরাফি বিন মুর্তজা বলছিলেন, এই মাঠের ইতিহাস দেখেন, যে দল চেজ করে, তারাই সাধারণত জেতে। টানা সাত ম্যাচে টসে হারার পর অবশেষে মুদ্রা-ভাগ্য হাসল মাশরাফির দিকে চেয়ে। চোখ বুজে ফিল্ডিং। চেজ করবেন মাশরাফিরা। তার মানে বাংলাদেশই জিতছে!
একটা সমস্যা অবশ্য ছিল। এটা চিন্নাস্বামীর সেই চিরচেনা উইকেট নয়। এই বিশ্বকাপে ভারত এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে যাচ্ছে, চেকড-ইন লাগেজের সঙ্গে যেন একটা টার্নিং উইকেটও দিয়ে দিচ্ছে! নাগপুর থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু—ভারত যেন এক উইকেটেই খেলছে। তা এমনই উইকেট, কোহলির মতো ব্যাটসম্যান ২২ বলে কোনো চার-ছয় মারতে পারেননি। শুভাগতকে একটা ছয় মারলেন, পরের বলেই আউট।
সেই উইকেটেই তামিমের ব্যাটে শুরু থেকেই স্ট্রোক প্লের ঝলক। দরকার ছিল ভালো একটা শুরুর। সেটি তো হলোই। ওই শেষ তিন বলের আগ পর্যন্ত সবকিছুই হলো।
মাশরাফি আগের ম্যাচে মাত্র এক ওভার বোলিং করেছিলেন বলে দলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। অধিনায়ক কাল পুরো ৪ ওভারই করলেন এবং তাতে রান মাত্র ২২। ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে তুলে আনার সিদ্ধান্তটা সম্ভবত কোচের। সকালে টিম মিটিংয়ে হাথুরুসিংহে নাকি এমনও বলেছিলেন, মাশরাফি তিনে নেমে গিয়ে ধুমধাম চালালে কেমন হয়! যা পাওয়া যাবে, তা-ই বোনাস। মাশরাফি অবশ্য একটা ছক্কার বেশি কিছু করতে পারলেন না। তা এই ‘বিন্দু বিন্দু জলকণা’ মিলেই না শেষে এসে এমন ‘সাগর’ প্রায় হয়েই যাচ্ছিল! সেই সাগর যে এমন শুকিয়ে যাবে, কেই-বা তা জানত!
ক্যাচ ফেলার পর সেই ব্যাটসম্যানের প্রতিটি রানই ফিল্ডারের বুকে এসে বিঁধে। আর সেই ফিল্ডার যদি বোলার হন এবং পরের ওভারটা করতে এসে চারটি চার খান, তাহলে কেমন লাগবে! উত্তরটা খুব ভালো দিতে পারবেন জসপ্রীত বুমরা। শর্ট ফাইন লেগে তামিমের এমন একটা ক্যাচ ফেললেন, যেটি ফেলা খুব কঠিন ছিল। কোথায় তামিমের কৃতজ্ঞতাভাজন হবেন, উল্টো তামিম একটা ঝড় বইয়ে দিলেন তাঁর ওপর।
ভাগ্য সাহসীদের পক্ষে থাকে। এই ম্যাচের বাংলাদেশ তো সাহসী বাংলাদেশ। ভাগ্যও তাই হাত ধরে হাঁটল। তিন-তিনটি ক্যাচ ফেললেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। ভাগ্য! সেই ভাগ্যই তো শেষে এসে এমন বৈরী হয়ে গেল! নইলে কি আর এই ম্যাচ বাংলাদেশ হারে!
দারুণ ফিল্ডিং, মাশরাফির বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্ব, ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই ইতিবাচকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া—সবকিছু মিথ্যা হয়ে গিয়ে শুধু সত্যি হয়ে রইল একটা দুঃস্বপ্ন!
শেষ তিনটি বল!

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করছেন রাজধানীর বেশ কিছু শিক্ষার্থী


ফ্রিল্যান্সিং কাজ করছেন রাজধানীর কড়াইল বস্তির বেশ কিছু শিক্ষার্থী। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজে উৎসাহ দিতে সম্প্রতি বিডিং নামের একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডেনমার্ক ভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোডারসট্রাস্ট। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেকে ফ্রিল্যান্সিং কাজ পেয়েছেন।
কোডারট্রাস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তাদের বিডিং প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। এঁদের প্রত্যেকে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে কাজের জন্য আবেদন করে কাজ পাচ্ছেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণরত বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীরাও প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বাসরত অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন।
কোডারট্রাস্টের দাবি, বিডিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১২ হাজার ডলারের কাজ পেয়েছেন দেশের ফ্রিল্যান্সারা। এর মধ্যে কড়াইল বস্তির অনেক ফ্রিল্যান্সার কাজ পেয়েছেন।
কোডারসট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ফার্দিনান্দ বলেন, প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই, আমাদের সবাইকে অবাক করে বনানীর কড়াইল বস্তির ছাত্রছাত্রীরা তাদের দক্ষতার প্রমান দিয়েছে। কোনো রকম আর্থিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধিকতা তাদেরকে বেঁধে রাখতে পারেনি। কোডারসট্রাস্ট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথম মাস শেষে প্রায় ২০০টি প্রকল্প সম্পূর্ণ করেছে এখানকার শিক্ষার্থীরা। তাঁরা মোট দুই হাজার ৬৩০টি প্রকল্পে আবেদন করেছে।
কোডারসট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের জন্য কোডারসট্রাস্টের অনলাইন সাপোর্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় যেকোনো সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। শিক্ষার্থীদের উন্নতমানের শিক্ষা প্রদানে কোডারসট্রাস্ট বনানীতে তাদের কার্যক্রম বড় পরিসরে শুরু করেছে।
কোডারসট্রাস্ট গত এক বছরে দেশে বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করেছে। শিক্ষার্থীদের কোড বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে দক্ষ প্রশিক্ষক দিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি কড়াইল বস্তির শিক্ষার্থীদের কোড শেখার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

সিদ্ধান্তটা আমাদেরই.........!!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদ পরাজিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। এই নেতাদের মধ্যে আছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন, মিচ ম্যাককনেল ও জন কাসিচ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, অন্যরা তেমন একটা সাড়া দিচ্ছে না।
এ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বব্যাপী উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘মুসলমানদের সঙ্গে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি ওয়াটারবোর্ডিংসহ আরও ভয়ানক প্রকৃতির নির্যাতন আবারও চালু করার কথা বলেছেন। টেড ক্রুজ দাবি করেছেন, আইএসের হামলার কারণে যে শরণার্থীরা ঘর ছেড়ে আসছে, তাদের দেশে ঢোকানোর প্রক্রিয়া যেন স্থগিত করা হয়। তিনি এ–ও সুপারিশ করেছেন, পুলিশি নিপীড়নের জন্য মুসলমানদের আলাদা করা হোক।
ওয়াটারবোর্ডিংসহ নির্যাতনের অন্যান্য কৌশল আবারও চালু করার পরামর্শ দেওয়াটা শৌর্য-বীর্যের লক্ষণ নয়, এটা বোকামির লক্ষণ। আমরা তো ইতিমধ্যে এটা করেছি, কিন্তু তার ফল বিপর্যয়কর হয়েছে। সিআইএর নির্যাতন ও আটক রাখার কৌশলে তথ্য বের করা যায়নি, ফলে তার মাধ্যমে একটি সন্ত্রাসী হামলাও প্রতিহত করা যায়নি। তবে এর ফলে বন্দীরা মার্কিনিদের হাতে মারাত্মক নিগ্রহের শিকার হয়েছে। এতে আমাদের নৈতিক কর্তৃত্ব ও বৈশ্বিক নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, যেটা আমাদের সন্ত্রাসী শত্রুদের চিরস্থায়ীভাবে রসদ জুগিয়ে গেছে। সেটা দিয়ে তারা যেমন প্রচারণা চালিয়েছে, তেমনি লোককে দলভুক্তও করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক ও সিরিয়া থেকে আইএসের সহিংসতার কারণে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের মধ্যে খুব অল্প কিছু মানুষকেই আশ্রয় দিয়েছে। আর সে প্রক্রিয়া যদি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, এমন সম্ভাবনা নেই। তবে এতে আমাদের ইউরোপীয় মিত্রদের চ্যালেঞ্জটা আরও তীব্র হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার সবচেয়ে কঠিন পথটা হচ্ছে শরণার্থী হয়ে ঢোকা, তার জন্য ২১টি স্বতন্ত্র ধাপ পেরোতে হয়। সময় লাগে এক বছর। নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় আট লাখ শরণার্থীকে স্থান দিয়েছে, তাদের মধ্যে একজনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দায়ে গ্রেপ্তার হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে, আরও আরও শরণার্থীকে স্থান দেওয়া। ভারের বেশির ভাগটা তাদেরই নেওয়া উচিত, যেটা এককভাবে আমাদের ইউরোপীয় মিত্রদের ঘাড়ে পড়েছে। এটা তাদের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
এসব প্রস্তাব ও বাগাড়ম্বরের কারণে মার্কিন সমাজে মুসলমানরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফলে আইএসের লক্ষ্যই অর্জিত হয়, অর্থাৎ পশ্চিমা সমাজ বিভক্ত হয়। যে সমাজটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন, সেই সমাজেই আইএসের প্রচারণার প্রভাব বেশি, সেখান থেকে তারা সবচেয়ে বেশি লোকও পায়। তবে এ কথা পরিষ্কার করে বলে রাখছি, বিচ্ছিন্নতার মাত্রা যত বেশিই হোক না কেন, তা কখনোই আইএসে যোগ দেওয়া ও নিরীহ মানুষকে হত্যা করার যুক্তি হতে পারে না। কিন্তু আমরা যদি ভুলে যাই বিভাজনের রাজনীতি ও ভাষা সমাজের কী ক্ষতি করতে পারে, তাহলে তা বোকামির শামিল হবে। এই রাজনীতিই যে আইএসের লোক জোগাড়ের ভিত গড়ে দেয়, সেটা ভোলা যাবে না।
সন্ত্রাসবাদের কারণে মানুষ ভীত হবে তা বোধগম্য, ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যেটা গ্রহণযোগ্য নয় তা হলো, একটি ভীতসন্ত্রস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে আরও ঘৃণা ও শঙ্কার সৃষ্টি হয় এমন কথা বলা। প্যারিস ও ব্রাসেলস হামলার পর যে মুসলিমবিদ্বেষের তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাতে যদি তেল-জল জোগায়, তাহলে আইএস এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পেয়ে যাবে। এতে নিরীহ মানুষের প্রাণহানিই ঘটবে, অন্য কিছু নয়।
এখন কথা হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যদি আমাদের মুসলিম নাগরিকদের আইএসবিরোধী যুদ্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র ও সম্পদ হিসেবে দেখে, তাহলে এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব হবে কম, প্রাণহানিও কম হবে। সিদ্ধান্তটা আমাদেরই।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী নামে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া

 
২০০৯ সালে কোনো রকম গবেষণা, সম্ভাব্যতা এবং ফলাফলের তোয়াক্কা না করে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী নামে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, এর ফলে শিক্ষার শনৈঃ শনৈঃ উন্নতি হবে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল যখন ছাপা হয়, তখনই আমরা জানতে পারি আমাদের প্রায় সব শিক্ষার্থীর মেধা আর মননের প্রভূত উন্নতি হচ্ছে। প্রতিবছরই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে বৈকি।
তবে শিক্ষার সামগ্রিক উদ্দেশ্য তো কেবল জিপিএ-৫ পাওয়া নয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের ভিত্তি মজবুত হচ্ছে তো? বিশ্বগ্রামের নাগরিক হিসেবে তারা তাদের বৈশ্বিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারবে তো? নাকি তারা কেবলই পরীক্ষার্থী হিসেবে নিজেদের ভাবছে, শিক্ষার্থী হওয়ার চেষ্টা করছে না?
সম্প্রতি সংস্কৃতিমন্ত্রী আমাদের পরীক্ষা আর সনদপ্রবণতার কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘দেশে কোনো শিক্ষার্থী নেই, আছে কেবল পরীক্ষার্থী?’ কেবল পরীক্ষা দিয়ে যেকোনোভাবেই একজন সংস্কৃতিমান কিংবা নিদেনপক্ষে একজন জ্ঞানকর্মীকে গড়ে তোলা যায় না, সেটা তাঁর মতো একজন সংস্কৃতিমান ব্যক্তিত্ব ভালোই জানেন। জানেন বলেই হয়তো তিনি তাঁর হতাশার কথা বলেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের স্মরণে চট্টগ্রামে কিশোর বিজ্ঞান সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এই পরীক্ষার আরও ভয়াবহ দিকটি আর একবার টের পেয়ে এসেছি। আগে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নানান বিষয়ে নানানভাবে সময় কাটানোর সুযোগ ছিল। কারণ, কোনো তথাকথিত সার্টিফিকেট পরীক্ষা তাদের ছিল না। শিক্ষার্থীদের প্রথম পরীক্ষাটা ছিল মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা।
এখন এটা শুরু হয় পঞ্চম শ্রেণিতে। এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাত্র চার চারটি পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয়, যা আমার জানা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কেবল বাংলাদেশেই আছে। এই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বা পিটিই-এর জন্য শিক্ষার্থীদের জানুয়ারি মাস থেকেই তোড়জোড় শুরু করতে হয়। কোচিং সেন্টারে যাওয়া, বাসায় গৃহশিক্ষকের আমদানি এবং এখন গোঁদের ওপর বিষফোড়া হয়েছে ‘মডেল টেস্ট’। এই মডেল টেস্টের অত্যাচার এমনকি সব দৈনিক পত্রিকার শিক্ষা পাতাতেও থাকে। কাজেই, যে কেউ যদি একজন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সারা বছরের কর্মকাণ্ড দেখেন তাহলে তিনি দেখবেন ওই শিক্ষার্থীর কাজ হলো নিজেকে পিটিই পরীক্ষার জন্য তৈরি করা এবং পরীক্ষার হলে গিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর উগরে দিয়ে আসা।
মজার বিষয় হচ্ছে, এই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কিন্তু আমাদের শিক্ষানীতিতে ছিল না। ২০০৯ সালে সম্ভবত মন্ত্রী-আমলাদের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে এটির উদয় হয়েছে। কোনো এক সভায় একজন শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছিলেন, আগের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মাত্র ২০% ছেলেমেয়ে অংশ নিত। এ কারণে অনেক বিদ্যালয়ে কেবল ওই ২০ শতাংশকেই দেখভাল করা হতো এবং প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে স্কুলগুলোর সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হতো না। স্কুল মূল্যায়ন ও তদারক করার জন্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার্থী বানিয়ে ফেলতে হবে—এ ধারণা পৃথিবীতে ইউনিক এবং এর উদ্যোক্তাকে ডারউইন পুরস্কার দেওয়া যায়!
শুরু হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এটি আখেরে ভালো হবে। আসলে কিন্তু হয়নি। হওয়ার কোনো কারণও নেই। ১০-১১ বছরের একজন শিক্ষার্থীকে নানান বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে হয়, তাকে লিখন-পঠন-গণনায় হাতেখড়ি নিতে হয়, সমস্যা সমাধানের মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হয়, যাতে পরের ধাপে সে আরও এগিয়ে যেতে পারে। কেবল কেয়কটি প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করেই এই শিখন-ফল অর্জন করা যায় না। আর স্কুলগুলোকে যখন কেবল জিপিএ–৫ দিয়ে মাপা হয়, তখন সেখানে আর কিছুই থাকে না। থাকে কেবল তোতা কাহিনীর শুকনো পাতার খসখস গজগজ।
চট্টগ্রামের ওই কিশোর সমাবেশে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল জানিয়েছেন, তাঁর ভাই অধ্যাপক হুপমায়ূন আহমেদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোটেই পড়াশোনা করতেন না। নানান কিছু করে বেড়াতেন। অষ্টম শ্রেণির পর থেকে তিনি পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে রসায়নে পিএইচডি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়েছেন। কিন্তু তাঁর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাঠে মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো আর যা খুশি তা করার স্বাধীনতা আমাদের একজন অসাধারণ কথাশিল্পী দিয়েছে। বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য কেউ তাঁকে বকা দেয়নি, কেউ তাঁকে স্কুল থেকে কোচিং সেন্টারে পাঠায়নি, কেউ মাত্র ১০ বছর বয়সে তাঁর কপালে জিপিএ–৫–এর ছাপ এঁকে দেয়নি। চট্টগ্রামের ওই সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তারা সাঁতার কাটতে জানে কি না। মাত্র দু-তিনজন হাত তুলেছিল!
আমার মেয়েকে মাঝেমধ্যে স্কুলে আনা-নেওয়ার কারণে আমি বেশ কিছু অভিভাবককে দেখি, যঁারা সন্তানের জন্য দুপুরের খবার হাতে নিয়ে স্কুলের সামনে বসে থাকেন। স্কুল ছুটির পর সন্তানকে কোচিং সেন্টারে নিয়ে যান এবং বেচারার দুপুরের খাবার খেতে হয় গাড়িতে! সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তাকে অন্তত কয়েক জায়গায় পড়তে যেতে হয়!
যে যা-ই বলুক, যে উদ্দেশ্যের কথাই বলুক না কেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা আমাদের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার্থী বানানো ছাড়া আর কোনো ‘সুফল’ বয়ে আনতে পারেনি। এই উৎপাত থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের অতি দ্রুত মুক্তি দেওয়া দরকার। সরকার বাহাদুর ইচ্ছে করলে এই বছরেই এই উৎপাত থেকে শিক্ষার্থীদের এবং তাদের অভিভাবকদের মুক্তি দিতে পারে।
যত তাড়াতাড়ি আমাদের পরীক্ষার্থীদের আমরা আবার শিক্ষার্থী বানাতে পারব, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।
* মুনির হাসান: সাধারণ সম্পাদক, গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি ও সমন্বয়ক, যুব কর্মসূচি

অবশেষে সেই জট খুলেছে, আগামী এপ্রিলের শেষ ভাগে এই নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু হবে


প্রায় পাঁচ মাস এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ-প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। অবশেষে সেই জট খুলেছে, আগামী এপ্রিলের শেষ ভাগে এই নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে এনটিআরসিএ। এ জন্য একটি সফটওয়্যারও বানানো হয়েছে। তাতে কোনো ত্রুটি আছে কি না তা যাচাই করতে এপ্রিলের শুরুতেই পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি স্কুলে নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এরপর সব ঠিক থাকলে পুরোপুরিভাবে শুরু হবে নিয়োগ-প্রক্রিয়া। নিয়োগের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এনটিআরসিএ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব থাকবে শুধু নিয়োগপত্র ইস্যু করা।
অভিযোগ রয়েছে, আগে এমপিওভুক্ত স্কুলে নিয়োগ পেতে পরিচালনা কমিটিকে পাঁচ-সাত লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো একজন প্রার্থীকে। কিন্তু এখন এনটিআরসিকে আবেদন ফি বাবদ মাত্র ১৮০ টাকা দিতে হবে। চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়ার আগে কারো সঙ্গে প্রার্থীর দেখা হওয়ারও সুযোগ থাকছে না। আর প্রথম থেকে দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সবাই এ নিয়োগে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, এবার পুরো নিয়োগ-প্রক্রিয়াই বদলে যাচ্ছে। শুধু পরিচালনা কমিটির ক্ষমতাই খর্ব নয়, নিয়োগ-প্রক্রিয়ার পুরোটা সম্পন্ন করা হবে অনলাইনে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে। টেলিটক বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই সফটওয়্যারের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এমনকি স্কুলগুলোর কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করতে হবে না। শুধু এনটিআরসিএ-কে তাদের চাহিদা জানাতে হবে। এনটিআরসিএ শিক্ষক চূড়ান্ত করে তাঁদের পাঠিয়ে দেবে স্কুলে।
জানা যায়, কোন প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক লাগবে এর একটি চাহিদা দেবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে বিভিন্ন চাকরিদাতা সাইটের মতো একটি লিংক থাকবে। কোন স্কুলে কতজন শিক্ষক লাগবে, সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এনটিআরসিএ। আর অনলাইনে আবেদনের একটি সময়সীমাও দেওয়া থাকবে। হাতে হাতে আবেদন করার কোনো সুযোগই থাকবে না। প্রার্থীরা তাঁদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবেন। এই আবেদনের জন্য টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে ১৮০ টাকা ফি দিতে হবে প্রার্থীদের।
এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথকভাবে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করবে। এরই মধ্যে দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর পুরনোদের নিয়ে প্রাপ্ত নম্বর ক্রমের আরেকটি তালিকা তৈরির কাজ শেষ করেছে তারা। প্রথমে যে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নেওয়া হবে সেই উপজেলার প্রার্থী খোঁজা হবে। এ ক্ষেত্রে দুই তালিকার প্রার্থীই পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হবে। আর নম্বর একই হলে যে বিষয়ের শিক্ষক নেওয়া হবে সে বিষয়ে যিনি বেশি নম্বর পেয়েছেন তাঁকে নির্বাচিত করা হবে। তাও এক হলে ঐচ্ছিক বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হবে। উপজেলা থেকে প্রার্থী পাওয়া না গেলে জেলা পর্যায়ে, এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায় থেকে প্রার্থী খোঁজা হবে। প্রার্থী নির্বাচন করার পর সনদ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ প্রতিটি পদের জন্য নির্বাচিত একজন করে প্রার্থীদের ডাকবেন। সব ঠিক থাকলে এনটিআরসিএ নির্বাচিত প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির কাছে সুপারিশ করবে। পরিচালনা কমিটি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেবে। 
অনলাইনে এই নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু করতে গত রবিবার সচিবালয়ে টেলিটকের সঙ্গে চুক্তি সই করে এনটিআরসিএ। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের উপস্থিতিতে চুক্তি সই হয়।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এপ্রিল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অনলাইনে এনটিআরসিএ বরাবর আবেদন করবেন। নিবন্ধনের ফলাফলের মেধাতালিকার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি কেবল নিয়োগপত্র ইস্যু করবে। আশা করব এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধাবী তরুণরা শিক্ষকতা পেশায় এগিয়ে আসবেন।’
নাম প্রকাশ না করে এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘অনলাইনে নিয়োগ শুরুর জন্য আমাদের সফটওয়্যার তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পরীক্ষামূলকভাবে এপ্রিলের শুরুতে এই নিয়োগ শুরু হতে পারে। সফটওয়্যারে কোনো ত্রুটি আছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য আমাদের আরো কিছুদিন সময় প্রয়োজন। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের শেষে অথবা মে মাসের শুরু থেকে পুরোপুরি নিয়োগ শুরু হতে পারে।’
পুরনোদের নিয়োগের ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে যাঁরা নিবন্ধনে উত্তীর্ণ তাঁদের সনদে কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। তাঁরা এই নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরুর পর প্রথম তিন বছর আবেদনের সুযোগ পাবেন। তার পরও তাঁরা সুযোগ পাবেন কি না এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।’