মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বেলজিয়াম ও ইউরোপীয়
মিত্রদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদ পরাজিত করার জন্য সমন্বিত
উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। এই নেতাদের মধ্যে আছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট
বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন, মিচ ম্যাককনেল ও জন কাসিচ। কিন্তু
দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, অন্যরা তেমন একটা সাড়া দিচ্ছে না।
এ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বব্যাপী উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘মুসলমানদের সঙ্গে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি ওয়াটারবোর্ডিংসহ আরও ভয়ানক প্রকৃতির নির্যাতন আবারও চালু করার কথা বলেছেন। টেড ক্রুজ দাবি করেছেন, আইএসের হামলার কারণে যে শরণার্থীরা ঘর ছেড়ে আসছে, তাদের দেশে ঢোকানোর প্রক্রিয়া যেন স্থগিত করা হয়। তিনি এ–ও সুপারিশ করেছেন, পুলিশি নিপীড়নের জন্য মুসলমানদের আলাদা করা হোক।
ওয়াটারবোর্ডিংসহ নির্যাতনের অন্যান্য কৌশল আবারও চালু করার পরামর্শ দেওয়াটা শৌর্য-বীর্যের লক্ষণ নয়, এটা বোকামির লক্ষণ। আমরা তো ইতিমধ্যে এটা করেছি, কিন্তু তার ফল বিপর্যয়কর হয়েছে। সিআইএর নির্যাতন ও আটক রাখার কৌশলে তথ্য বের করা যায়নি, ফলে তার মাধ্যমে একটি সন্ত্রাসী হামলাও প্রতিহত করা যায়নি। তবে এর ফলে বন্দীরা মার্কিনিদের হাতে মারাত্মক নিগ্রহের শিকার হয়েছে। এতে আমাদের নৈতিক কর্তৃত্ব ও বৈশ্বিক নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, যেটা আমাদের সন্ত্রাসী শত্রুদের চিরস্থায়ীভাবে রসদ জুগিয়ে গেছে। সেটা দিয়ে তারা যেমন প্রচারণা চালিয়েছে, তেমনি লোককে দলভুক্তও করেছে।
এ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বব্যাপী উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘মুসলমানদের সঙ্গে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি ওয়াটারবোর্ডিংসহ আরও ভয়ানক প্রকৃতির নির্যাতন আবারও চালু করার কথা বলেছেন। টেড ক্রুজ দাবি করেছেন, আইএসের হামলার কারণে যে শরণার্থীরা ঘর ছেড়ে আসছে, তাদের দেশে ঢোকানোর প্রক্রিয়া যেন স্থগিত করা হয়। তিনি এ–ও সুপারিশ করেছেন, পুলিশি নিপীড়নের জন্য মুসলমানদের আলাদা করা হোক।
ওয়াটারবোর্ডিংসহ নির্যাতনের অন্যান্য কৌশল আবারও চালু করার পরামর্শ দেওয়াটা শৌর্য-বীর্যের লক্ষণ নয়, এটা বোকামির লক্ষণ। আমরা তো ইতিমধ্যে এটা করেছি, কিন্তু তার ফল বিপর্যয়কর হয়েছে। সিআইএর নির্যাতন ও আটক রাখার কৌশলে তথ্য বের করা যায়নি, ফলে তার মাধ্যমে একটি সন্ত্রাসী হামলাও প্রতিহত করা যায়নি। তবে এর ফলে বন্দীরা মার্কিনিদের হাতে মারাত্মক নিগ্রহের শিকার হয়েছে। এতে আমাদের নৈতিক কর্তৃত্ব ও বৈশ্বিক নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, যেটা আমাদের সন্ত্রাসী শত্রুদের চিরস্থায়ীভাবে রসদ জুগিয়ে গেছে। সেটা দিয়ে তারা যেমন প্রচারণা চালিয়েছে, তেমনি লোককে দলভুক্তও করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক ও
সিরিয়া থেকে আইএসের সহিংসতার কারণে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের মধ্যে খুব অল্প
কিছু মানুষকেই আশ্রয় দিয়েছে। আর সে প্রক্রিয়া যদি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়,
তাহলে আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, এমন সম্ভাবনা নেই।
তবে এতে আমাদের ইউরোপীয় মিত্রদের চ্যালেঞ্জটা আরও তীব্র হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার সবচেয়ে কঠিন পথটা হচ্ছে শরণার্থী হয়ে ঢোকা, তার জন্য ২১টি স্বতন্ত্র ধাপ পেরোতে হয়। সময় লাগে এক বছর। নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় আট লাখ শরণার্থীকে স্থান দিয়েছে, তাদের মধ্যে একজনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দায়ে গ্রেপ্তার হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে, আরও আরও শরণার্থীকে স্থান দেওয়া। ভারের বেশির ভাগটা তাদেরই নেওয়া উচিত, যেটা এককভাবে আমাদের ইউরোপীয় মিত্রদের ঘাড়ে পড়েছে। এটা তাদের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
এসব প্রস্তাব ও বাগাড়ম্বরের কারণে মার্কিন সমাজে মুসলমানরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফলে আইএসের লক্ষ্যই অর্জিত হয়, অর্থাৎ পশ্চিমা সমাজ বিভক্ত হয়। যে সমাজটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন, সেই সমাজেই আইএসের প্রচারণার প্রভাব বেশি, সেখান থেকে তারা সবচেয়ে বেশি লোকও পায়। তবে এ কথা পরিষ্কার করে বলে রাখছি, বিচ্ছিন্নতার মাত্রা যত বেশিই হোক না কেন, তা কখনোই আইএসে যোগ দেওয়া ও নিরীহ মানুষকে হত্যা করার যুক্তি হতে পারে না। কিন্তু আমরা যদি ভুলে যাই বিভাজনের রাজনীতি ও ভাষা সমাজের কী ক্ষতি করতে পারে, তাহলে তা বোকামির শামিল হবে। এই রাজনীতিই যে আইএসের লোক জোগাড়ের ভিত গড়ে দেয়, সেটা ভোলা যাবে না।
সন্ত্রাসবাদের কারণে মানুষ ভীত হবে তা বোধগম্য, ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যেটা গ্রহণযোগ্য নয় তা হলো, একটি ভীতসন্ত্রস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে আরও ঘৃণা ও শঙ্কার সৃষ্টি হয় এমন কথা বলা। প্যারিস ও ব্রাসেলস হামলার পর যে মুসলিমবিদ্বেষের তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাতে যদি তেল-জল জোগায়, তাহলে আইএস এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পেয়ে যাবে। এতে নিরীহ মানুষের প্রাণহানিই ঘটবে, অন্য কিছু নয়।
এখন কথা হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যদি আমাদের মুসলিম নাগরিকদের আইএসবিরোধী যুদ্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র ও সম্পদ হিসেবে দেখে, তাহলে এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব হবে কম, প্রাণহানিও কম হবে। সিদ্ধান্তটা আমাদেরই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার সবচেয়ে কঠিন পথটা হচ্ছে শরণার্থী হয়ে ঢোকা, তার জন্য ২১টি স্বতন্ত্র ধাপ পেরোতে হয়। সময় লাগে এক বছর। নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় আট লাখ শরণার্থীকে স্থান দিয়েছে, তাদের মধ্যে একজনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দায়ে গ্রেপ্তার হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে, আরও আরও শরণার্থীকে স্থান দেওয়া। ভারের বেশির ভাগটা তাদেরই নেওয়া উচিত, যেটা এককভাবে আমাদের ইউরোপীয় মিত্রদের ঘাড়ে পড়েছে। এটা তাদের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
এসব প্রস্তাব ও বাগাড়ম্বরের কারণে মার্কিন সমাজে মুসলমানরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফলে আইএসের লক্ষ্যই অর্জিত হয়, অর্থাৎ পশ্চিমা সমাজ বিভক্ত হয়। যে সমাজটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন, সেই সমাজেই আইএসের প্রচারণার প্রভাব বেশি, সেখান থেকে তারা সবচেয়ে বেশি লোকও পায়। তবে এ কথা পরিষ্কার করে বলে রাখছি, বিচ্ছিন্নতার মাত্রা যত বেশিই হোক না কেন, তা কখনোই আইএসে যোগ দেওয়া ও নিরীহ মানুষকে হত্যা করার যুক্তি হতে পারে না। কিন্তু আমরা যদি ভুলে যাই বিভাজনের রাজনীতি ও ভাষা সমাজের কী ক্ষতি করতে পারে, তাহলে তা বোকামির শামিল হবে। এই রাজনীতিই যে আইএসের লোক জোগাড়ের ভিত গড়ে দেয়, সেটা ভোলা যাবে না।
সন্ত্রাসবাদের কারণে মানুষ ভীত হবে তা বোধগম্য, ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যেটা গ্রহণযোগ্য নয় তা হলো, একটি ভীতসন্ত্রস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে আরও ঘৃণা ও শঙ্কার সৃষ্টি হয় এমন কথা বলা। প্যারিস ও ব্রাসেলস হামলার পর যে মুসলিমবিদ্বেষের তীব্র বিস্ফোরণ ঘটেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাতে যদি তেল-জল জোগায়, তাহলে আইএস এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পেয়ে যাবে। এতে নিরীহ মানুষের প্রাণহানিই ঘটবে, অন্য কিছু নয়।
এখন কথা হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যদি আমাদের মুসলিম নাগরিকদের আইএসবিরোধী যুদ্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র ও সম্পদ হিসেবে দেখে, তাহলে এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব হবে কম, প্রাণহানিও কম হবে। সিদ্ধান্তটা আমাদেরই।
No comments:
Post a Comment