Sunday, June 12, 2016

শ্যুটিং করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফারিয়া!

লন্ডন থেকে উড়াল দিয়ে এসেছিলেন ঢাকায়। কোনো ধরনের বিশ্রাম ছাড়াই বান্দরবানে যোগ দিয়েছিলেন জাকির হোসেন রাজুর ‘প্রেমি ও প্রেমি’ ছবির শুটিংয়ে। ঠিকঠাকভাবে শুটিংও চলছিল। কিন্তু হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ায় শুটিং স্পটেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ফারিয়া। তাৎক্ষণিকভাবে বান্দরবানে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নেওয়া হয়।
ফারিয়া এখন তাঁর ঢাকার বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। আজ শনিবার সকালে ফারিয়া কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘গত কয়েক মাস আমার ওপর দিয়ে একরকম ঝড় বয়ে গেছে। অনেক কাজ করতে হয়েছে। সিনেমার শুটিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সিনেমার প্রচারণার কাজে ঢাকা, কলকাতা, লন্ডন অনেক বেশি দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। কোনো বিশ্রামই নিতে পারিনি। এই কারণে শরীরটা বেশি দুর্বল হয়ে গেছে। তারই প্রভাব পড়েছে বান্দরবানে। ভেবেছিলাম, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কাজ করতে পারব। কিন্তু কোনোভাবে কাজ করার শক্তি পাচ্ছিলাম না। পরিচালক আমার ব্যাপারটি বুঝতে পারছিলেন। তাই তিনি শুটিং স্থগিত করে দেন।’
ফারিয়া জানান, চিকিৎসক তাঁকে সাত দিনের বিশ্রাম নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। এরপর যদি শারীরিকভাবে নিজেকে সুস্থ মনে করেন, তাহলে কাজে ফিরতে পারবেন।
এরপর আবারও কাজ শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বাধ্য হয়ে পরিচালককে শুটিং স্থগিত করতে হয়। গতকাল রাতের বিমানে ফারিয়াসহ ছবির পুরো ইউনিট চলে আসে ঢাকায়।

Tuesday, April 5, 2016

এবার হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিদের বার্ষিক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার নিমন্ত্রণ পেলেন ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া



ঢাকা: এবার হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিদের বার্ষিক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার নিমন্ত্রণ পেলেন ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

এটাই হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা আয়োজিত শেষ নৈশভোজ অনুষ্ঠান। এখানে প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি অংশগ্রহণ করবেন হলিউড অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপার, অভিনেত্রী জেন ফন্ডা, লুসি লিউ ও গায়ক গ্লাডিস নাইট। তবে ৩৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ওবামার সঙ্গে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন কি-না তা এখনও নিশ্চিত নয়।

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক এই নৈশভোজ মূলত আয়োজন করা হয় সাংবাদিকতায় দৃষ্টান্তমূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বৃত্তি প্রদানের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে। এখানে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির পাশাপাশি থাকবেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংবাদ সংস্থার সদস্যরা।

এর আগে আমেরিকান টিভি সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’তে দারুণ অভিনয় ও অস্কার মঞ্চে উঠে পশ্চিমাদের মুগ্ধ করেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। প্রিয়াঙ্কা এখন ‘বেওয়াচ’ ছবির কাজে ব্যস্ত। এর মাধ্যমে হলিউডে অভিষেক হচ্ছে তার। এ ছাড়া ‘কোয়ান্টিকো’র দ্বিতীয় মৌসুমের কাজও করছেন তিনি।

Saturday, March 26, 2016

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচে খুশি দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে



নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচে খুশি দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। টুর্নামেন্টে ব্যাটসম্যানদের কিছু ভুলে ম্যাচ হারলেও হাথুরুসিংহের কণ্ঠে স্বস্তি।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার মতে আমরা কন্ডিশন বুঝে ভালোই ব্যাট করেছি এই টুর্নামেন্টে। তবে আজকে আমাদের ব্যাটিংয়ের অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিল না। অন্য ম্যাচগুলোয় আমরা খারাপ করিনি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে শুরুতে আরও একটু রান করলে ভালো হতো। এই ম্যাচ বাদ দিলে ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচে আমি খুশিই।’

শনিবার ইডেনের উইকেটে বল খুব নিচু হচ্ছিলো। তাইতো হাথুরুসিংহে মনে করেন এই ধরনের উইকেটে ১২০-১৩০ রান স্বাভাবিক। তার বেশি রান করা কিছুটা হলেও কঠিন। তিনি বলেন, ‘ আমার মতে এটা ১৪০ রানের উইকেট নয়। হয়ত ১২০-১৩০ রানের উইকেট। প্রথম ৪-৫ ওভার থেকেই বল নিচু হচ্ছিল। বলের শক্তভাব কেটে গিয়েছিল। বল নিচু হচ্ছিল এবং দুরকম গতির ছিল। নিউজিল্যান্ডের কৃতিত্ব অবশ্য কেড়ে নিচ্ছি না আমরা। ওদের বোলাররার কন্ডিশন বুঝে দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বোলিং করেছেন। তবে দিনশেষে আবারও বলতে হবে আজকে আমাদের ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিল না।’
ভারতের বিপক্ষে এক রানে হেরে হতাশ হয়ে পড়েছিলো বাংলাদেশ দল। ওই ম্যাচের প্রভাব এখানে পড়েছি কিনা জানতে চাইলে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘এটা বলা মুশকিল। তবে ওই ম্যাচে ওভারে হেরে যাওয়া হজম করা কঠিন। আমরা কিছু কিছু সময় ভালো বোলিং করেছি। ফিল্ডিংয়ে অবশ্য কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেছি। ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাট করতে পারিনি।’

বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়


বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।
বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে বারাক ওবামার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতা যে কোনও জাতির নিঃশ্বাসের মতো। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ও এর জনগণ বিশ্বের বুকে সম্ভাবনাময়, উদ্যমী ও সহনশীল জাতিতে পরিণত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, নারী অধিকার ও নারী শিক্ষা ও দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে এবং দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দেখিয়েছে।’
এদিকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে পাঠানো এক বার্তায় ৪৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

বার্তায় প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কে অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে। আমি নিশ্চিত, দুই দেশের মধ্যকার এই চমত্কার সম্পর্ক আগামীতে আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’

Friday, March 25, 2016

আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ তথ্যপ্রযুক্তিতে ভাতাসহ প্রশিক্ষণ


এখন প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই অন্যান্য বিভাগের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগও রয়েছে। এই তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে প্রতিষ্ঠানগুলো চায় প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ করতে। ফলে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকের। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে চাকরি করতে হলে আগে এ বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এমনই এক প্রশিক্ষণ দেবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশনাল ওয়াক্ফ (আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের সুবিধাবঞ্চিত মুসলমান মেধাবী যুব সমাজের শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয়ে বিনা ফিতে বিভিন্ন মেয়াদি প্রফেশনাল ডিপ্লোমা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত এই প্রফেশনাল কোর্সে ৪ হাজার ৭২১ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই দেশে-বিদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় কাজ করছেন। প্রতিবছর চারটি সেশনে এখানে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করানো হয়। এরই মধ্যে চলছে রাউন্ড ৩১-এর আবেদন প্রক্রিয়া। আবেদন করতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। তাই যাঁরা তথ্যপ্রযুক্তিতে নিজের পেশা গড়তে চান, তাঁরা করতে পারেন এই প্রফেশনাল ডিপ্লোমা কোর্সটি।
যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণএই ব্যাচে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এর মধ্যে আর্কিটেকচারাল অ্যান্ড সিভিল ক্যাড, ডেটাবেইস ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমস অ্যানালায়সিস অ্যান্ড ডিজাইন, গ্রাফিকস, অ্যানিমেশন ও ভিডিও এডিটিং, নেটওয়ার্কিং টেকনোলজিস এবং ওয়েব-প্রেজেন্স সলুশনস অ্যান্ড ইমপ্লিমেনটেশনস এসব বিষয়ে। কোর্সভেদে ১১ থেকে ১৩ মাস মেয়াদি এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা
এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হলে আবেদনকারীকে স্নাতক/ফাজিল/মাস্টার্স/কামিল/ডিপ্লোমা (সিভিল/আর্কিটেকচার/কনস্ট্রাকশন/সার্ভে) পাস হতে হবে। আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে apply.idb-bisew.info এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যেকোনো শাখা থেকে আবেদনপত্র পাওয়া যাবে। আবেদনপত্র পূরণ করে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ডাকযোগে পাঠাতে হবে। এখানে প্রতি ব্যাচে ৩০০ জন করে বছরে ১ হাজার ২০০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হতে পারে। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। এমসিকিউ পদ্ধতিতে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরে পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হবে। এই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। প্রশিক্ষণ শুরু হবে আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে। সপ্তাহে ছয় দিন চার ঘণ্টা করে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে মনোনীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে। এসব প্রশিক্ষণ দেবেন দেশের বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউয়ের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ রায়হান বাশার বলেন, দেশে এখন প্রায় অনেকেরই তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে ভালো কোনো চাকরি হচ্ছে না। তাই নিজেকে দক্ষ করে তোলার জন্য এই প্রশিক্ষণটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। আর এখানে প্রফেশনাল কোর্সটির আগে দুই মাসের ফান্ডামেন্টাল কোর্স করতে হবে। এতে ভালো করতে পারলে পরে মূল প্রফেশনাল কোর্সগুলোতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রায়হান বাশার আরও জানান, এই প্রফেশনাল কোর্স করার সময় প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে।
কাজের ক্ষেত্র
রায়হান বাশার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির ওপর এসব প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, বায়িং হাউস, আইটি ফার্ম, এনজিও ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অনেক সুযোগ পাওয়া যাবে। সবচেয়ে চাহিদা-সুযোগ আছে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোতে। এতে ভালো বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিজে ব্যবসা করেও ভালো আয় করা সম্ভব। অর্থাৎ যেখানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আছে, সেখানেই তাঁরা কাজের সুযোগ পাবেন বলে জানান রায়হান বাশার।
আরও জানতে
কোর্সসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-বাংলাদেশ, ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশনাল ওয়াক্ফ (আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ), আইডিবি ভবন, পঞ্চম তলা, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা- ১২০৭। ফোন: ৯১৮৩০০৬। Web: www.idb-bisew.org

তনু হত্যার প্রতিবাদের মিছিল বড় হোক

বাবা বাড়িতে। রাত সোয়া ১০টা বাজে। মেয়ে ফেরেনি। তিনি মেয়েকে খুঁজতে বেরোলেন। বাবার হাতে টর্চলাইট। বাড়ির অদূরেই কালভার্টের কাছে পড়ে আছে একপাটি জুতা। তাঁরই মেয়ের। টর্চ মেরে দেখলেন একটু দূরে তার মোবাইল পড়ে আছে। কালভার্টের আরেক পাশে পাওয়া গেল তনুকে। বাবার চিৎকারে তনুর ছোট ভাই রুবেলও ততক্ষণে ছুটে এসেছে।
এই পর্যন্ত পড়েই বুকটা চেপে ধরে। শরীর হিম হয়ে আসে। আহা, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন সাহেব। আপনার মনের ভেতর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গেছে তখন, তনুর মায়ের মনের ওপর দিয়ে, আপনাদের সমস্ত অস্তিত্বজুড়ে কী অসহ্য অমেয় বেদনার পাহাড় চেপে বসে আছে! আমি কল্পনা করতে পারছি না। আমি এই চাপ নিতে পারছি না।
কী প্রাণবন্ত একটা মেয়ে ছিল তনু। সোহাগী জাহান তনু। আপনাদের আদরের সোহাগী। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, একাধিক, মাথায় স্কার্ফ, মুখে হাসি, চোখে বুদ্ধির ঝলক। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাসের ছাত্রী। নাটক করে। সংস্কৃতি চর্চা করে। প্রাণহীন বিক্ষত দেহ পড়ে রইল কালভার্টের পাশে, জঙ্গলের ভেতরে। বাড়ির খুব কাছে।
আমিও তো বাবা। আমার বুকের মধ্যে সন্তানহারানো বাবার সমস্ত বেদনা এসে চেপে ধরে। আমিও একজন মানুষ! আরেকটা মানুষের এই অপরিসীম উত্তরহীন শোক, বেদনা, যন্ত্রণা আমাকেও খানিকটা স্পর্শ করে।
হয়তো তনুর এই খবর আমি অগ্রাহ্য করে নিস্তরঙ্গ হয়েই থাকতাম। রোজ তো তাই করি। এত দুঃসংবাদ, এত মৃত্যু, এত নারী নির্যাতন, আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা, রেল-নৌ দুর্ঘটনার খবরের চাপে পলায়নবাদী হয়ে গেছি। ওই সব খবর পাশ কাটিয়ে চলে যাই। নিরাপদ তন্দ্রায় আশ্রয় নিতে চাই। পড়লে সহ্য করতে পারব না। কান্নাকাটি করব। বাকি সব কাজ তুচ্ছ মনে হবে। বুঝি, এ হলো বার্ধক্যের লক্ষণ। উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে বহমান ঝড়কে ভুলে থাকার চেষ্টা।
কিন্তু তরুণেরা তা হতে দিল না। আমার মতো আধমরাদের ঘা মেরে বাঁচানোর জন্য সারা বাংলাদেশের অপরাজেয় তারুণ্য জেগে উঠেছে। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে দখল করেছে কুমিল্লার সড়ক-মহাসড়ক। প্রতিবাদে রুখে উঠেছে দেশের নানা জায়গার তরুণসমাবেশ। তারুণ্য তো তাই। প্রতিবাদ করাই তো তারুণ্যের ধর্ম। হেলাল হাফিজ তো সেই কবেই লিখে রেখেছেন, এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।
ওইখানেই আশার আলো দেখছি। প্রতিবাদের আগুনে আমাদের কালিমা পুড়ে যাক। আমরা খাঁটি সোনা হয়ে উঠি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন, এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, এই হাতে আমি কি আর কোনো পাপ করতে পারি? স্মৃতি থেকে লিখছি, এদিক-ওদিক হতে পারে, সুনীল লিখেছিলেন, পুরুষ পাঞ্জার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলি, যোগ্য হও, যোগ্য হয়ে ওঠো। যে হাতগুলো মিছিলে যাবে, মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আকাশের দিকে উঠবে, তারা সবাই যেন শুদ্ধ হয়ে ওঠে, এই পুরুষ হাতগুলো যেন তনুদের পাশে থাকবার, সঙ্গে চলবার জন্য চিরদিনের জন্য যোগ্য হয়ে ওঠে।
তনুকে যারা হত্যা করেছে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হোক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যেন আর কেউ কোনো তনুর দিকে তাদের হিংস্র হাত বাড়ানোর সাহস না পায়। এটা সম্ভব।
সেই যে দিনাজপুরের ইয়াসমিন হত্যার বিরুদ্ধে সমবেত প্রতিবাদে কাজ হয়েছিল। বিচার হয়েছে, শাস্তি পেয়েছে অপরাধীরা। এবারও তাই হতে হবে। দোষীদের খুঁজে বের করতে পারতেই হবে। অপরাধীর/অপরাধীদের আইনানুগ ন্যায্য ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতেই হবে।
পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা সর্বস্তরে বন্ধ করার আন্দোলনও সূচিত হোক আজকের দিনটি থেকেই। আমাদের তিনজন নারীর দুজনই নির্যাতিত হন নিজ ঘরে। আমাদের নারীরা সম্মানিত নন, সমমর্যাদা পান না কোথাও। আজকে যে তরুণেরা প্রতিবাদী হয়ে নেমেছেন রাজপথে, যে তরুণেরা সর্বস্ব পণ করে আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, তাঁদের বলি, এই নৃশংস অপরাধের ন্যায়বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার এই আন্দোলন বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান। হাস্তালা ভিক্তোরিয়া সিয়েম্পে্র—চে গুয়েভারার উক্তি—মাহমুদুজ্জামান বাবুর গানে যা আমরা শুনতে পাই—বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও… এখনই অন্ধ বন্ধ কোরো না পাখা, তা হোক এই আন্দোলনের ব্রত। পাশাপাশি, ঘরে-বাইরে, মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে, যানবাহনে-স্টেশনে, কর্মস্থলে-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, পাহাড়ে-সমতলে, নির্জন স্থানে আর জনতার ভিড়ে—সর্বত্র আমরা যেন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে, নারী সহকর্মী নিয়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে বেরোতে ভয় পাই, ভিড়ের কারণে, বইমেলার গেটে নারীসঙ্গী থাকলে তটস্থ হয়ে থাকি। ভিড়ের মধ্যে নারী নিরাপদ নন। নারী নিরাপদ নন তাঁর নিজের ঘরে। নারী নিরাপদ নন নির্জন স্থানে। নারী নিরাপদ নন কাস্টোডিতে। নারী নিরাপদ নন অফিসে। এবং শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত কে এই সমাজে নিজেকে নিরাপদ ভাবেন? কোন নারী?
এসব ব্যাপারে করণীয় আছে অনেক। তবে সবকিছুর শুরু হবে নিজ থেকে, নিজের পরিবার থেকে। আমার নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে যেমন বলতে হবে, যোগ্য হও, যোগ্য হয়ে ওঠো, তেমনি আমার ছেলে সন্তানটিকে উপযুক্ত মূল্যবোধ দিতে হবে, আমি যদি নারীকে সম্মান না করি, আমার সন্তান শিখবেটা কী।
তনু হত্যার প্রতিবাদের মিছিল বড় হোক। ওই প্রতিবাদের আগুন আমাদের পুড়িয়ে পুড়িয়ে খাঁটি করে তুলুক। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে যেন বিন্দুমাত্র গড়িমসি না করে। ব্যক্তিও যেন নিজেকে শুদ্ধ করতে ব্রতী হয়। সমাজ যেন পুরুষবাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে মানববাদী হয়ে ওঠে।

Thursday, March 24, 2016

এই ম্যাচের বাংলাদেশ তো সাহসী বাংলাদেশ!!


ভারতীয় ক্রিকেটারদের লাফালাফি শেষে দুদলের খেলোয়াড়দের হাত মেলানো-টেলানো সারা। প্রায় সবাই বেরিয়ে গেছেন। সাকিব আর তামিম তখনো মাঠের মাঝখানে। সাকিব উত্তেজিতভাবে কিছু একটা যেন বললেন। তারপর দুজনই কোমরে হাত দিয়ে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। তারপর শরীরটা টানতে টানতে ড্রেসিংরুমে ফেরা।
ফেরার সময় উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা হরভজন সিংয়ের দিকে চোখ পড়ল তামিমের। পিঠে টোকা দিয়ে তাঁর সঙ্গে হাত মেলালেন। হরভজন হাত ছাড়িয়ে জড়িয়ে ধরলেন তামিমকে। কিছুক্ষণ ধরেই থাকলেন।
এই ম্যাচে এত সব নাটক ছাপিয়ে ওই দৃশ্যটাই কি শেষ পর্যন্ত অমর ছবি হয়ে গেল! এমন এক ম্যাচ, যাতে আসলে বিজয়ের আনন্দে ভেসে যেতেও বিজয়ীর মনে বিজিতের জন্য একটু কষ্ট ছুঁয়ে যায়!
টি-টোয়েন্টি মানে নাটক। টি-টোয়েন্টি মানে শেষ ওভারের নখ কামড়ানো উত্তেজনা। এই বিশ্বকাপ তো তাহলে টি-টোয়েন্টি নামের ‘কলঙ্ক’! শেষ হওয়ার অনেক আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে ম্যাচের পর ম্যাচ। অবশেষে বেঙ্গালুরুর উন্মাতাল গ্যালারির সামনে টি-টোয়েন্টি দেখা দিল আপন মহিমায়। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এটা কি আর সেই বৃহত্তর ছবি দেখার ম্যাচ!
এই ম্যাচ হৃদয় ভেঙে দেওয়া এক দুঃখের নাম। হাতের মুঠোয় নিয়েও জয়টাকে ছুড়ে ফেলার ম্যাচ। এমনই অবিশ্বাস্যভাবে যে, দুঃখ শব্দটা এখানে ‘শোক’ হয়ে যেতে চায়। ২০১২ এশিয়া কাপের সেই ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হারার পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মুশফিক-সাকিবরা। কাল কান্নাকাটি কিছু হয়ে থাকলে তা আড়ালেই হলো। সেই কান্না পিছু তাড়া করার কথা অনেক দিন। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর শয়নে-স্বপনে নিশ্চিতভাবেই ফিরে ফিরে আসবে শেষ তিন বলের ওই দুঃস্বপ্ন।
শেষ ওভারে ১১ রান চাই। প্রথম তিন বলেই হয়ে গেল ৯। শেষ তিন বলে ২ রান, বাকি সব সমীকরণ মুছে দিয়ে ম্যাচ তখন একটা সম্ভাবনা নিয়েই দাঁড়িয়ে—বাংলাদেশই জিতছে। হার্দিক পান্ডিয়াকে পরপর দুটি চার মেরে সেই জয়ের আগাম উল্লাসটাও যেন করে ফেললেন মুশফিকুর রহিম!
তাতেই কি সর্বনাশটা হলো! আবেগের ঢেউ এলোমেলো করে দিল এমনিতে মুশফিকের নিষ্কম্প মনকে! একটা সিঙ্গেল নিলেই যেখানে স্কোর সমান হয়ে যায়, আসলে শেষ হয়ে যায় ম্যাচও—তিনি কিনা উড়িয়ে মারতে গেলেন। ডিপ মিড উইকেটে ওই ক্যাচটা আসলে দুঃস্বপ্নের সূচনা, কেই-বা তা ভাবতে পেরেছিল! বাংলাদেশই তো জিতছে! স্ট্রাইকে চলে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। ২ বলে ২ রান তো হচ্ছেই। মুশফিকের ভুল কি আর মাহমুদউল্লাহ করবেন!
ফুল টস পেয়ে মাহমুদউল্লাহর যুক্তি-বুদ্ধিও সব গুলিয়ে গেল। মুশফিকের মতো তাঁরও একই পরিণতি। শেষ বলে রান আউটে ম্যাচটা ‘টাই’ও হলো না। ৩ বলে ২ রান চাই, আর সেই তিন বলেই তিন উইকেট! না, টি-টোয়েন্টি এমন কিছু আর দেখেছে বলে মনে হয় না।
ওই তিনটি বল বাদ দিলে আগের দিনও বিপর্যস্ত মনে হওয়া বাংলাদেশ কী দারুণই না খেলল!
সব আশা যখন শেষ বলে মনে হয়, তখনই ঘুরে দাঁড়িয়ে চমকে দেওয়ার গল্প অনেকবারই লেখা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। কালকের দিনটিকেও মনে হচ্ছিল তাতে নবতম সংযোজন। শুরু থেকেই যেন সেই চিত্রনাট্য অনুসরণ করে এগোচ্ছিল ম্যাচ।
বিশ্বকাপের বাইরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আর কয়টাই বা খেলা হয়! রেকর্ড দিয়ে তাই মাঠ বিচার করাটা কঠিন। তবে ভারতে এই সমস্যা নেই। আইপিএলের কারণে প্রতিটি মাঠেরই একটা চরিত্র দাঁড়িয়ে গেছে। সেই চরিত্র অনুযায়ী চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম ব্যাটিং-স্বর্গ। প্রথমে ব্যাটিং করে এই মাঠে গড় স্কোর ১৮৯। সেখানে ভারত করতে পারল ১৪৬। তার মানে বাংলাদেশই জিতছে!
আগের দিন মাশরাফি বিন মুর্তজা বলছিলেন, এই মাঠের ইতিহাস দেখেন, যে দল চেজ করে, তারাই সাধারণত জেতে। টানা সাত ম্যাচে টসে হারার পর অবশেষে মুদ্রা-ভাগ্য হাসল মাশরাফির দিকে চেয়ে। চোখ বুজে ফিল্ডিং। চেজ করবেন মাশরাফিরা। তার মানে বাংলাদেশই জিতছে!
একটা সমস্যা অবশ্য ছিল। এটা চিন্নাস্বামীর সেই চিরচেনা উইকেট নয়। এই বিশ্বকাপে ভারত এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে যাচ্ছে, চেকড-ইন লাগেজের সঙ্গে যেন একটা টার্নিং উইকেটও দিয়ে দিচ্ছে! নাগপুর থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু—ভারত যেন এক উইকেটেই খেলছে। তা এমনই উইকেট, কোহলির মতো ব্যাটসম্যান ২২ বলে কোনো চার-ছয় মারতে পারেননি। শুভাগতকে একটা ছয় মারলেন, পরের বলেই আউট।
সেই উইকেটেই তামিমের ব্যাটে শুরু থেকেই স্ট্রোক প্লের ঝলক। দরকার ছিল ভালো একটা শুরুর। সেটি তো হলোই। ওই শেষ তিন বলের আগ পর্যন্ত সবকিছুই হলো।
মাশরাফি আগের ম্যাচে মাত্র এক ওভার বোলিং করেছিলেন বলে দলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। অধিনায়ক কাল পুরো ৪ ওভারই করলেন এবং তাতে রান মাত্র ২২। ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে তুলে আনার সিদ্ধান্তটা সম্ভবত কোচের। সকালে টিম মিটিংয়ে হাথুরুসিংহে নাকি এমনও বলেছিলেন, মাশরাফি তিনে নেমে গিয়ে ধুমধাম চালালে কেমন হয়! যা পাওয়া যাবে, তা-ই বোনাস। মাশরাফি অবশ্য একটা ছক্কার বেশি কিছু করতে পারলেন না। তা এই ‘বিন্দু বিন্দু জলকণা’ মিলেই না শেষে এসে এমন ‘সাগর’ প্রায় হয়েই যাচ্ছিল! সেই সাগর যে এমন শুকিয়ে যাবে, কেই-বা তা জানত!
ক্যাচ ফেলার পর সেই ব্যাটসম্যানের প্রতিটি রানই ফিল্ডারের বুকে এসে বিঁধে। আর সেই ফিল্ডার যদি বোলার হন এবং পরের ওভারটা করতে এসে চারটি চার খান, তাহলে কেমন লাগবে! উত্তরটা খুব ভালো দিতে পারবেন জসপ্রীত বুমরা। শর্ট ফাইন লেগে তামিমের এমন একটা ক্যাচ ফেললেন, যেটি ফেলা খুব কঠিন ছিল। কোথায় তামিমের কৃতজ্ঞতাভাজন হবেন, উল্টো তামিম একটা ঝড় বইয়ে দিলেন তাঁর ওপর।
ভাগ্য সাহসীদের পক্ষে থাকে। এই ম্যাচের বাংলাদেশ তো সাহসী বাংলাদেশ। ভাগ্যও তাই হাত ধরে হাঁটল। তিন-তিনটি ক্যাচ ফেললেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। ভাগ্য! সেই ভাগ্যই তো শেষে এসে এমন বৈরী হয়ে গেল! নইলে কি আর এই ম্যাচ বাংলাদেশ হারে!
দারুণ ফিল্ডিং, মাশরাফির বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্ব, ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই ইতিবাচকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া—সবকিছু মিথ্যা হয়ে গিয়ে শুধু সত্যি হয়ে রইল একটা দুঃস্বপ্ন!
শেষ তিনটি বল!